অল্প বয়সে চুল পাকার ১৪ টি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা
কালো ঝলমলে মাথা ভর্তি চুল পুরুষ বা নারীর সৌন্দর্যের প্রতি মাথায় কালো ঝলমলে চুল থাকলে নারী-পুরুষ উভয়কেই ভালো লাগে। কিন্তু যদি ওই মাথাতেই আবার হঠাৎ করে পাকা চুল দেখা দেয়। তাহলে কি অবস্থা হয় বলেন টেনসনে মাথা খারাপ হয়ে যায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই । বিভিন্ন দুশ্চিন্তা মাথায় চেপে বসে সবাই কি বলবে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা কি বলবে এই বিষয়টা নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে বিভিন্ন চিন্তা মাথায় ঘুরপাক করে । একটা সময় ছিল যে বয়স না বাড়লে চুল সহজে প্রাপ্ত না কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়া যান্ত্রিক ব্যবহার প্রযুক্তির ব্যবহার অথবা বংশগত কারণে হয়ে থাকে অল্প বয়সে চুল পাকার । তবে বর্তমান যুগে অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা অসংখ্য মানুষের মাঝে দেখা যাচ্ছে । এইদিকে লক্ষ্য করে আমরা
আপনাদের কাছে অল্প বয়সে চুল পাকার ছোট্টটি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে লিখার সামান্য চেষ্টা করছি যদি আপনার এই বিষয়ে জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের সাথে এই পোস্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকবেন । তাহলে জানতে পারবেন অল্প বয়সে চুল পাকার চৌদ্দটি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে । চলুন তাহলে দেরি না করে আমরা এই বিষয়ে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন ।
পোস্ট সূচিপত্র
ভূমিকা
প্রিয় পাঠক আজকে আমরা আপনাদের সাথে এ পোষ্টের মাধ্যমে অল্প বয়সে চুল পাকার চৌদ্দটি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করব জানতে হলে আপনারা আমাদের সাথে এই পোস্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকবেন আশা করছি চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
চুল কেন পাকে
চলুন আমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে জেনে নিন চুল কেন তাকে এই সম্পর্কে।আমাদের চুলে কালো রং আসে কেন জানেন বেশিরভাগ মানুষই তা জানে না। আমাদের চুল কালো রং হওয়ার কালো কারণ হচ্ছে মেলানিন নামক একটি রঞ্জন কণিকা থেকে চুল কালো হয় । যতক্ষণ এর উৎপাদন ঠিক থাকে ততক্ষণ চুল কালো থাকে আর এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে চুল সাদা হওয়া শুরু করে।
চুল পাকা বংশগত কারণ কি
আসুন এ পোষ্টের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে জানাবো চুল পেকে যাওয়া বংশগত কারণ কি সে সম্পর্কে কিছু কথা। অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এটা বংশগত কারণে হয়ে থাকে। যদি আপনার মা বাবা কারো এ সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তাদের কাছ থেকেও আপনার হতে পারে। যদি আপনার মা অথবা বাবা হালকা বয়সে চুল পাকার সমস্যা থেকে থাকে তাহলে এ সমস্যাটা আপনারও হতে পারে।
ভিটামিন বি এর অভাব
আসুন আমরা এই পোষ্টের মাধ্যমে জেনে নেই ভিটামিন বি এর অভাবে কি চুল পাকে সে সম্পর্কে। হ্যাঁ ভিটামিন বি এর অভাবে চুল পাকে ।আবার স্ট্রেস থেকেও চুল পাকে এটা হয় বংশগত কারণ থেকে। শরীরে ভিটামিন বি এর অভাব থাকলে চুল পাকে এজন্য আমাদেরকে ভিটামিন ডি এর অভাব।
তবে ২৮ অথবা ৩০ বছর বয়সে চুলপাকা ধরলেন এই কারণ স্ট্রেস হতে পারে। তবে এই অসুবিধার সমাধান করে নিতে পারলে আপনি অনেকটাই স্বাভাবিকই চলে আসতে পারবেন। আর যদি আপনার চুল পেকে গিয়েই থাকে বা কম বয়সে চুল পেকে গেছে তাহলে আমরা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছি অল্প বয়সে চুল পাকা 14 টি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে।চলুন তাহলে দেরি না করে আমরা আলোচনা শুরু করি।
অল্প বয়সে চুল পড়ার ১৪ টি ঘরোয়া প্রতিকার
আজকের এই পোস্ট থেকে আমরা জানতে পারবো অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার ১৪ টি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হলে এ পোস্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবশ্যই আমাদের সাথে থাকবেন তাহলে জানতে পারবেন।
আমলকি
এমন একটি উপাদান যে উপাদানটি ব্যবহার করার দ্বারা অল্প বয়সে পেকে যাওয়া চুল আবার আগের মত কালো ঝলমলে করে দেবে।শুধু আমলকি ব্যবহার করলে হবে না এটা ব্যবহার করার একটা নিয়ম আছে নিয়মটা হলো একটি পাত্রে নারকেল তেল পরিমাণ মতো নিয়ে নিতে হবে এবং কয়েকটি আমলকি নিতে হবে তারপর গরম করতে হবে। গরম করার পর আস্তে আস্তে চুলে লাগাতে হবে এভাবে দুই সপ্তাহ ব্যবহার করলে আস্তে আস্তে চুল কালো ঝলমলে আগের মত। আমলকিতে থাকা উপাদান চুলকে কালো ঝলমল করে না চুলের গোড়াও শক্ত করে।
নারকেল তেল
নারকেল তেল মাথায় ব্যবহার করা এটি একটি প্রাকৃতিক উপায় নারকেল তেলের সাথে লেবুর একটি বাটিতে নিয়ে একত্রে মিক্সড করে তুলে ব্যবহার করতে হবে তাহলে চুলের গোড়াও শক্ত হবে এবং চুল কালো ঘন হবে।
আদা
এক বা দুই চামচ মধুর সাথে আদা বেটে প্রতিদিন চুলে লাগান এভাবে প্রতিদিন মিশ্রণটি চুলের ব্যবহার করতে থাকেন তাহলে এই উপাদানের দ্বারা আপনার চুল গোড়া থেকে শক্ত হবে এবং পাকা চুল কালো হয়ে যাবে আগামী মত।
কমলালেবুর খোসা
অল্প বয়সে চুল পাকা রোগ দেখা দিলে আরেকটি কার্যকারী উপাদান হচ্ছে কমলালেবুর খোসা। কমলালেবুর খোসা বেটে চুল এবং মাসে মাখলে চুল কালো ঘন হয় এবং চুলের গোড়া মজবুত হয় চুল সিল্কি হয়। কমলালেবুর খোসা রস চুলের জন্য অনেক উপকারী। এই মিশ্রণটি প্রতিদিন ব্যবহার করলে আপনি অনেক উপকৃত হবেন এবং আগের চাইতে আপনার চুল মজবুত শক্ত আলো এবং সিল্কি হবে।
হেনা পাউডার
হেনা পাউডার এর সাথে তুলসী পাতা মেছি ও কফি পাউডারের পেস্ট করে একত্রিতে চুলে লাগালে তার সাথে নিম পাতার রস এড করে এ সমস্ত মিশ্রণগুলোকে একত্রিত মিশিয়ে প্রতিদিন চুলে ব্যবহার করুন। তাহলে চুলের গোড়া শক্ত হবে চুল পাকা চুল আগের মত কালো হবে চুল সিল্কি হবে।আপনি চাইলে নারকেল তেলও ব্যবহার করতে পারবেন এগুলোর সাথে কোন অসুবিধা নাই তাতেও কাজ করব।
ঘি ব্যবহার
আপনি সপ্তাহে আপনার চুলে দুই থেকে তিন দিন ঘি মাসাজ করতে পারে এর ফলে খুব তাড়াতাড়ি আপনার চুলে পরিবর্তন আসা শুরু করব কোন সন্দেহ নেই অর্থাৎ চুল কালো হওয়া শুরু করবে।
কারি পাতা
চুলের গোড়া শক্ত করতে হলে এবং চুলের পিগমেন্ট বাড়াতে হলে আপনাকে কারি পাতার সাথে নারকেল তেল গরম করে নিতে হবে খুব বেশি গরম করতে হবে যাতে কারি পাতাটা দেখতে কালচে মনে হয়। এভাবে নারকেল তেল এবং কারি পাতা গরম করে নেয়ার পরে চুলের গোড়ায় বা পুরো মাথায় পুরো চুলে ভালোভাবে লাগাতে হবে এভাবে প্রতিদিন করতে থাকলে অবশ্যই আপনার চুল মজবুত হবে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং সাদা থেকে চুল কালো হয়ে যাবে আগের মত।
কাঁচা পেঁয়াজ
কাঁচা পেঁয়াজ চুলের জন্য অনেক উপকারী কাঁচা পেঁয়াজ বেটে চুলে লাগালে চুলের গোড়া শক্ত হয়। এবং এর সাথে সাথে চুলের আদ্রতা ফিরে আসে চুল ঘন কালো হয় এই ঘরোয়া উপায়ে আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন এটা আপনি অনেক উপকার পাবেন।
নিম তেল
প্রতিদিন নিমের তেল ব্যবহার করার দ্বারা চুলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ফেলে যার ফলে চুল পড়া চুল পাকা রোদ হয়। আপনি প্রতিদিন এই তেল ব্যবহার করলেন আপনার চুলের জন্য অনেক উপকার হবে চুলের বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হবে সাদা চুল আস্তে আস্তে কালো হতে শুরু করবে চুল শক্ত হবে এবং শিল্পী হবে।
আরো পড়ুন: ১৪ টা ওষুধে গাছের গুনাগুন
সরিষার তেল
সরিষার তেল চুলের জন্য অনেক উপকারী এটা নতুন না আদিকাল থেকেই চলে সরিষার তেল ব্যবহারের প্রচলন চলে আসছে। সরিষার তেল প্রতিদিন ব্যবহার করলে চুল কালো হয় ঘন হয় শক্ত হয়। এমন কোন মানুষ নাই যে সে বিশ্বাস করে না যে চুলের কোন সমস্যা হলে সেটা সরিষার তেলের সমাধান হয় না। শুধু চুল সাদা করাই না চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান রয়েছে সরিষার তেলে।
বাদাম তেল
চুলের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে আরেকটি উপাদান হল বাদাম তেল এটি চুলের অনেক উপকারে আসে বিশেষ করে কালো চুল সাদা করা চুলকে ঘন করা গরম গরম মজবুত করা যাবতীয় কাজে বাদাম তেলের সঙ্গে আমলকি ও লেবুর রস মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে এ সমস্ত সমস্যার সমাধান অবশ্যই হবে।
গোলমরিচ ও দই
চুলের গোড়া মজবুত ও পাকা চুল কালো করতে গোলমরিচের সাথে দই ও লেবুর মিশ্রণে চুলের গোড়ায় তিন থেকে চার সপ্তাহ দুই তিন মিনিট পরে ম্যাসাজ করুন। এভাবে মেসেজ করা শুরু করলে অবশ্যই সাদা চুল কালো হবে আরও অনেক উপকার রয়েছে এই মিশ্রণটিতে।
অ্যালোভেরা ব্যবহার
আপনি চাইলে প্রতিদিন আপনার চুলে এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে চুল কালো হয় গরম মজবুত হয় চুল অনেক সিল্কি হয় এলোভেরা ব্যবহারে অনেক উপকার হয় চুলের ক্ষেত্রে।
জবা ফুল
অল্প বয়সে পেকে যাওয়া জুড়ে আপনি চাইলে জব ফুল ব্যবহার করতে পারে জবা ফুলে বেটে যে কস বা আঠালো পদার্থ বের হয় সেটা চুল কালো করতে অনেক সাহায্য করে অনেক উপকারী এবং চুলের গোড়া শক্ত করে চুল লম্বা করে ঘন করে জবা ফুল চুলে লাগালে।
শেষ কথা
এই পোষ্টের মাধ্যমে আমরা আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করেছিলাম অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ ও ১৪ টি ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে আপনাদের যদি ভালো লেগে থাকে এই পোস্টটি তাহলে অবশ্যই আপনারা আপনাদের পরিচিতদের কাছে শেয়ার করবেন ধন্যবাদ। লেখার মধ্যে ভুলটি ধরলে মাফ করবেন প্রয়োজনীয় বিষয় গেলে অন্যদের কাছে শেয়ার করুন।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url